মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সভাপতি

প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ

সভাপতি, বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চল

প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ ১৯৫২ সালে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলহাজ্ব মোবাশ্বের আলী ও মাতা মোসাম্মাৎ তারা।

শিক্ষা জীবনে ড. হারুন আইরন জয়কুল এম এম হাইস্কুল ও বরিশাল বি এম কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। অসাধারণ মেধাবী ছাত্র হারুন-অর-রশিদ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে বিএ (অনার্স) ও এম এ উভয় পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে ১৯৮৩ সালে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ডব্লিউ এইচ মরিস-জোন্স এর তত্ত্বাবধানে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রেকর্ড পরিমাণ স্বল্প সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। অতঃপর তিনি কমনওয়েলথ একাডেমিক স্টাফ ফেলোশিপ নিয়ে ১৯৯২ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়, সুইডিস গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ নিয়ে ১৯৯৪ সালে উপসালা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নুমাতা ফেলোশিপ নিয়ে ২০১৪ সালে জাপানের রিউকোকু বিশ্ববিদ্যালয় (কিউটো)-এ পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।

শিক্ষানুরাগী ড. হারুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করেন। জ্ঞান চর্চা ও জ্ঞান বিতরণের মহৎ কাজে আত্মনিয়োগকারী ড. হারুন ১৯৮৫ সালে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১১ সাল থেকে তিনি সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত একজন প্রফেসর। চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট (১৯৯৭-২০০১), সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পরপর ৩ বার নির্বাচিত ডিন (২০০৩-২০০৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (২০০৯-২০১২), সিনেট সদস্য (১৯৯৪-২০০৮), সিন্ডিকেট সদস্য (২০০৯-২০১২), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির পরপর ৩ বার নির্বাচিত সদস্য (২০০৭-২০০৯), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত সদস্য (১৯৮৪), বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির নির্বাচিত জেনারেল সেক্রেটারি (১৯৯৪-১৯৯৫) ও এর সহ-সভাপতি (২০০৬-২০০৭, ২০১০-২০১৩), জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য (১৯৯৭), মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের আলোকে পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন ও সংশোধনে গঠিত সরকারি কমিটির সদস্য (১৯৯৬) সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

সমাজ ও শিক্ষা নিয়ে প্রতিনিয়ত চিন্তাশীল বরেণ্য এ শিক্ষাবিদ ও গবেষকের ১০টি গবেষণা গ্রন্থ, ৫টি সম্পাদিত গ্রন্থ ও ৭০টি গবেষণা প্রবন্ধ দেশ-বিদেশে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হচ্ছে - দ্য ফোরস্যাডোয়িং অব বাংলাদেশ ১৯০৬-১৯৪৭ (এশিয়াটিক সোসাইটি ১৯৮৭, ইউপিএল ২০০৩), ইনসাইড বেঙ্গল পলিটিক্স ১৯৩৬-১৯৪৭ (ইউপিএল ২০০৩), বাঙালির রাষ্ট্রচিন্তা ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় (আগামী ২০০১), বাংলাদেশ : রাজনীতি, সরকার ও শাসনতান্ত্রিক উন্নয়ন ১৭৫৭-২০১৮ (অন্যপ্রকাশ ২০১৮), বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পুনর্পাঠ (ইউপিএল ২০১৩), ‘আমাদের বাঁচার দাবী : ৬ দফার ৫০ বছর’ (বাংলা একাডেমি ২০১৫), মূলধারার রাজনীতি : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কাউন্সিল ১৯৪৯-২০১৬ (বাংলা একাডেমি ২০১৬), ৭ই মার্চের ভাষণ কেন বিশ্ব-ঐতিহ্য সম্পদ : বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ (অন্যপ্রকাশ ২০১৮), বঙ্গীয় মুসলিম লীগ : পাকিস্তান আন্দোলন, বাঙালির রাষ্ট্রভাবনা ও বঙ্গবন্ধু (অন্যপ্রকাশ ২০১৮)। এ ছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোস্যাল সায়েন্স রিভিউ ও সামাজিক বিজ্ঞান পত্রিকা, জার্নাল অব দি এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিতে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় ২০ খণ্ডে ‘মুক্তিযুদ্ধের এনসাইক্লোপিডিয়া’ রচনা প্রকল্পের প্রধান হিসেবে গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও কৃতী গবেষক ড. হারুন-অর-রশিদ তাঁর ম‚লধারার রাজনীতি : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৪৯-২০১৬ গ্রন্থটি রচনার জন্য মৌলিক গবেষণা কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত হন।

বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের অদম্য ব্যক্তিত্ব ড. হারুন ২০১৩ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। দেশের বৃহত্তর এ শিক্ষায়তন ও এর প্রায় ২৮ লক্ষ শিক্ষার্থীর অভিভাবক ড. হারুন তাঁর মেধা, মনন, নিষ্ঠা এবং নেতৃত্বের পরশ দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানের আসনে অসীন করেছেন। তাঁর যোগ্যতা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও স্বীয় কাজের প্রতি আন্তরিকতা বিবেচনায় সদাসয় সরকার তাঁকে মার্চ ২০১৭ থেকে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেন।

স্কাউট দরদী ড. হারুন ২০১৩ সালেই রোভার অঞ্চলের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন। অঞ্চলের সভাপতি হিসেবে তিনি রোভার প্রোগ্রাম, প্রশিক্ষণ, সংগঠন, সিডি কার্যক্রমসহ যাবতীয় কার্যক্রমে সুচিন্তিত পরামর্শ ও সক্রিয় নির্দেশনা দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন। তাঁর সময়ে ৮৭১টি নতুন দল গঠিত হয়। এছাড়া ৭৪টি বেসিক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন হয়, যাতে ২৬৫৪ জন অংশগ্রহণ করে। তাঁর নেতৃত্বে অষ্টাদশ আঞ্চলিক রোভার মুট-২০১৭ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়, যাতে প্রায় আট হাজার অংশগ্রহণকারী অংশগ্রহণ করে। তাঁর সময়কালে বাংলাদেশ স্কাউটসের সহযোগিতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আনুকূল্যে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ১৮৮ একর ভূমি বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চল ব্যবহারের অনুমতি লাভ করে, যেখানে একটি আন্তর্জাতিকমানের রোভার অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 

স্কাউট বান্ধব ড. হারুন-এর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে রোভার স্কাউটিং-এর শতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ২০১৮ সালের সূচনা লগ্নে অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭-র মধ্যরাতে আতশবাজি, বেলুন ও পায়রা উড়ানো, কনসার্ট আয়োজন এবং শত ইঞ্চি কেক কেটে শতবর্ষ কর্মসূচির শুভ সূচনা। এছাড়া সারাবছর দেশব্যাপী শতবর্ষী বেসিক কোর্স, মেট কোর্স, প্রাক্তন পিআরএস ও প্রাক্তণ রোভার স্কাউটার পুনর্মিলনী, প্রতিভা অন্বেষণ, সাইকেল র‌্যালি, স্মরণ সভা ও স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। আয়োজন চলছে শতবর্ষী রোভার মুটের।

২০২১ সালে একুশ লক্ষ স্কাউট তৈরির লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারিকৃত অনুশাসনের আলোকে তিনি তাঁর দপ্তর থেকে পরিপত্র জারি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রোভার স্কাউট দল গঠনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এছাড়া রোভার স্কাউট ফি আদায়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের আত্ম উন্নতির লক্ষ্যে রোভার স্কাউটিং সম্প্রসারণে তাঁর অনবদ্য অবদানের জন্য তিনি ইতোমধ্যে স্কাউট অঙ্গণে প্রশংসিত হয়েছেন। 

ব্যক্তি, পারিবারিক ও কর্মজীবনে অত্যন্ত সফল নিবেদিতপ্রাণ এ স্কাউটার ইতোপূর্বে বাংলাদেশ স্কাউটস কর্তৃক সভাপতি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন। রোভার স্কাউটিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে তাঁর ধারাবাহিক অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ স্কাউটস তাঁকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড ‘রৌপ্য ইলিশ’ প্রদান করে।


Share with :

Facebook Facebook